ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে হত্যার মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় ফের পিছিয়েছে।
আদালত নতুন করে আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি প্রতিবেদন দাখিলের দিন নির্ধারণ করেছেন।
রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন।
প্রতিবেদন দাখিল না হওয়ায় নতুন তারিখ
আদালত সূত্রে জানা গেছে, রোববার মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল।
তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এবং পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞাআদালতে কোনো প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি।
এ কারণে আদালত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন নির্ধারণ করেন।
চার্জশিট নিয়ে নারাজি, পুনঃতদন্তের আদেশ
এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে আদালতে নারাজি আবেদন করেন।
আদালত নারাজি আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি পুনরায় তদন্তের নির্দেশ দেন।
হত্যাকাণ্ডের ঘটনা কীভাবে ঘটেছিল
মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ১২ ডিসেম্বর মতিঝিলে জুমার নামাজ শেষে নির্বাচনী প্রচারণা শেষ করেন শরিফ ওসমান হাদি।
পরে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যাওয়ার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে পল্টন মডেল থানাধীন বক্স কালভার্ট এলাকায় পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুষ্কৃতকারীরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।
অপারেশন শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু
ঘটনার কয়েকদিন পর, গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য হাদিকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়।
সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
তার মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যাচেষ্টার মামলা থেকে হত্যা মামলায় রূপান্তরিত হয়।
মামলা ও অভিযোগপত্র
হাদিকে গুলি করে হত্যাচেষ্টার অভিযোগে গত ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় মামলা দায়ের করেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের।
মামলায় দণ্ডবিধির একাধিক ধারায় অভিযোগ আনা হয়, যার মধ্যে রয়েছে—
অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র
হত্যাচেষ্টা
বিপজ্জনক অস্ত্র ব্যবহার
গুরুতর আঘাত
অপরাধে সহায়তা
১৭ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট, পাঁচজন পলাতক
গত ৬ জানুয়ারি গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) মামলার অভিযোগপত্র জমা দেয়।
এতে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফয়সল করিম মাসুদসহ মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, অভিযুক্তদের মধ্যে পাঁচজন এখনো পলাতক।
প্রধান অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
ফয়সল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল
তার পরিবারের সদস্যরা
সহযোগী কয়েকজন
ভারতে পালাতে সহায়তাকারী ব্যক্তিরা
রাজনৈতিক প্রতিহিংসার অভিযোগ
অভিযোগপত্রে তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক ফয়সল আহমেদ উল্লেখ করেন, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় এবং হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য বিশ্লেষণ করে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে—
এই হত্যাকাণ্ডটি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকে ঘটানো হয়েছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে এবং ভোটারদের মধ্যে ভয়ভীতি তৈরি করতেই পরিকল্পিতভাবে হামলাটি চালানো হয়।
পরবর্তী শুনানি ১৯ ফেব্রুয়ারি
আদালত এখন মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছেন।