বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দোকানপাট ও শপিংমল খোলা রাখার সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়িয়েছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পূর্বনির্ধারিত সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে এখন থেকে রাত ৭টা পর্যন্ত বিপণিবিতান খোলা রাখা যাবে।
রোববার দুপুরে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত এ তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, পবিত্র ঈদুল আজহা ও পহেলা বৈশাখকে সামনে রেখে ব্যবসায়ী মহলের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আজ থেকেই নতুন সময়সূচি কার্যকর হচ্ছে। এর আগে শনিবার বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে সন্ধ্যা ৬টার সময়সীমা বহাল রাখার কথা জানিয়েছিলেন। তবে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জ্বালানি মজুদ নিয়ে আশ্বস্ত সরকার
সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী জানান, দেশে এপ্রিল মাসের জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুদ রয়েছে। এছাড়া আগামী তিন মাসের চাহিদা পূরণের মতো পেট্রোল ও অকটেনও সংরক্ষিত আছে। তিনি আরও বলেন, নতুন কিছু উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার কাজ করছে।
কৃষকদের অগ্রাধিকার
জ্বালানি সরবরাহে কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। সেচ মৌসুমে যাতে কোনো সংকট না হয়, সে জন্য জেলা প্রশাসকদের বিশেষ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে সরকার বদ্ধপরিকর বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ২ এপ্রিল জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সরকারি-বেসরকারি অফিসের সময়সূচির পাশাপাশি দোকানপাট সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার নির্দেশনা দিয়েছিল সরকার। তবে প্রায় ৭০ লাখ দোকান মালিক ও আড়াই কোটি কর্মচারীর জীবিকা এবং উৎসবকেন্দ্রিক কেনাকাটার বিষয় বিবেচনায় ব্যবসায়ীরা সময় বাড়ানোর দাবি জানান।
নতুন এই সিদ্ধান্তে ব্যবসায়ীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে অফিস-আদালত আগের ঘোষণার মতোই সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে।