চৌদ্দগ্রামে রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র প্রতিক্রিয়া, সচেতন মহলে ক্ষোভ
চৌদ্দগ্রামে এক চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক মেরুকরণের মধ্য দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমীর ডা. আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের। প্রচারণার শুরুতেই তার পাশে দেখা গেছে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা এবং যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা নিক্ষেপে ৮ জন হত্যার মামলার অন্যতম আসামি, আওয়ামী লীগ নেতা সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে।
শনিবার (তারিখ উল্লেখযোগ্য) উপজেলার কালিকাপুর ইউনিয়নে প্রচারণা শুরুর সময় প্রকাশ্যে সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারকে পরিচয় করিয়ে দেন ডা. তাহের। এ সময় তিনি উপস্থিত কর্মী-সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন,
“উনি আমাদের অভিভাবক। আগে দূরত্ব ছিল, এখন আর নাই।”
জুলাই হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত একজন নেতাকে এভাবে ‘অভিভাবক’ হিসেবে উপস্থাপন করা এবং প্রকাশ্য প্রচারণায় সঙ্গে রাখা নিয়ে স্থানীয় জনগণ ও সচেতন মহলে ব্যাপক ক্ষোভ ও বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও পেট্রোলবোমা মামলার অভিযোগ
সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারের বিরুদ্ধে গত জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় চৌদ্দগ্রাম থানার সামনে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডারদের সঙ্গে নিয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হামলা ও হত্যাযজ্ঞে সরাসরি নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ওই ঘটনায় ৫ আগস্ট শহীদ হন জামসেদুর রহমান।
এছাড়া ২০১৫ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি চৌদ্দগ্রামের নোয়াবাজার এলাকায় যাত্রীবাহী বাসে পেট্রোলবোমা হামলায় ৮ জন যাত্রী নিহত হন। এই মামলায় সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ১১ নম্বর এবং তার ছেলে যুবলীগ নেতা নেয়ামত উল্লাহ মজুমদার ৭৯ নম্বর আসামি।
গ্রেপ্তার ও জামিন
গত বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি কুমিল্লা শহরের একটি গোপন আস্তানা থেকে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার ও তার ছেলে নেয়ামত উল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। তবে অজ্ঞাত কারণে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে তারা জামিনে মুক্তি পান।
স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন পাটোয়ারীকে ‘কথিত বন্দুকযুদ্ধে’ হত্যার পেছনেও সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদারের সম্পৃক্ততা ছিল।
জনমনে প্রশ্ন ও রাজনৈতিক সমালোচনা
ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের পতনের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপনে থাকা সালাহউদ্দিন আহমেদ মজুমদার এখন জামায়াত নেতার ছায়ায় প্রকাশ্যে আসায় জনমনে নানা প্রশ্ন উঠেছে। অনেকেই এটিকে ‘ভোটের রাজনীতিতে নীতিহীন সমঝোতা’ হিসেবে দেখছেন।
সাধারণ মানুষের বক্তব্য, জুলাই বিপ্লবের শহীদদের রক্তের দাগ যখন এখনো শুকায়নি, তখন সেই অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে রাজনৈতিক ‘অভিভাবক’ হিসেবে গ্রহণ করা শহীদদের আত্মত্যাগের প্রতি চরম অবমাননা।
নতুন সংকটের আশঙ্কা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পেশিশক্তি ও ভোটব্যাংক শক্তিশালী করতে সাবেক আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে জামায়াতের এই নতুন ‘মৈত্রী’ নির্বাচনের মাঠে নতুন ধরনের সংকট ও উত্তেজনার জন্ম দিতে পারে। বিষয়টি ঘিরে চৌদ্দগ্রামসহ আশপাশের এলাকায় চলছে তীব্র আলোচনা ও সমালোচনা।