সরকারি অর্থ ব্যবহারে চরম অদক্ষতা ও জবাবদিহির ঘাটতি রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টারের (পিপিআরসি) নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. হোসেন জিল্লুর রহমান। তিনি বলেন, রাজধানীর মিন্টো রোডে জনগণের টাকায় সচিবদের জন্য নির্মিত ফ্ল্যাটগুলোর সুযোগ-সুবিধা বিলাসবহুল হোটেলকেও হার মানায়, যা সরকারি অর্থের অপচয়ের স্পষ্ট উদাহরণ।
বৃহস্পতিবার রাজধানীর সিরডাপ মিলনায়তনে ‘অর্থনৈতিক শাসন ও দুর্নীতি প্রতিরোধ’ শীর্ষক এক নীতি সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন। গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) এ সংলাপের আয়োজন করে।
ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, সচিবদের ফ্ল্যাট নির্মাণে বিপুল অর্থ ব্যয় হলেও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) অনেক প্রকল্প সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না। সরকারি টাকা কোথায় ও কী কারণে ব্যয় হচ্ছে—সে বিষয়ে স্বচ্ছ ও স্পষ্ট হিসাব পাওয়া যায় না।
তিনি আরও বলেন, দুর্নীতির পাশাপাশি রাষ্ট্রের আরেকটি বড় সমস্যা হলো ‘হয়রানি’। জনবান্ধব নয়—এমন রাষ্ট্রীয় কাঠামো ও আমলাতন্ত্রের সাধারণ মানুষের থেকে দূরে থাকার সংস্কৃতি থেকেই এই হয়রানির জন্ম। ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের একটি কাজ সম্পন্ন করতে বহু দপ্তরে ঘুরতে হয় এবং নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়তে হয়। যদিও রাজনীতিবিদরা দুর্নীতি নিয়ে কথা বলেন, কিন্তু হয়রানির এই বাস্তব চিত্র যথাযথ গুরুত্ব পায় না।
সংলাপে তিনি বলেন, সব মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টাদের পক্ষ থেকে কোন কাজ হয়েছে আর কোনটি হয়নি—সে বিষয়ে রিপোর্ট দেওয়া হবে, যা পরবর্তী সরকারের জন্য সহায়ক হবে। বর্তমানে আমলাদের ক্ষমতায়ন অতিরিক্তভাবে বেড়েছে। বিনিয়োগ স্থবির, কর্মসংস্থান কমছে এবং মেধাবী তরুণরা দেশে থাকতে আগ্রহী নয়। ওভার-সেন্ট্রালাইজেশন বেড়ে যাওয়ায় বিকেন্দ্রীকরণ এখন জরুরি। সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতা নেই—জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। তার মতে, দেশের অর্থনীতি মূলত তৈরি পোশাক (আরএমজি) ও রেমিট্যান্সের ওপর নির্ভরশীল।
সংলাপে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন বলেন, ভালো মানুষ রাজনীতিতে না এলে সংসদে জবাবদিহি নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। তিনি সংসদ সদস্যদের ফুলটাইম এমপি হিসেবে দায়িত্ব পালনের ওপর গুরুত্ব দেন এবং এমপি হোস্টেল ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক সায়মা হক বিদিশা বলেন, দেশে নীতিমালার অভাব নেই, কিন্তু বাস্তবায়নের ঘাটতি প্রকট। শেয়ারবাজার সংস্কার, করছাড়ের যৌক্তিক ব্যবহার এবং নারী উদ্যোক্তাদের জন্য ট্রেড লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
সংলাপে আরও বক্তব্য দেন রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক এম আবু ইউসুফ, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরী, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রির সাবেক সভাপতি শাহেদুল ইসলাম হেলাল, ইউনিভার্সিটি অব এশিয়া প্যাসিফিকের ব্যবসায় অনুষদের ডিন এম এ বাকী খলীলী, বারভিডার সভাপতি আব্দুল হক এবং জাপান-বাংলাদেশ ফ্রেন্ডশিপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান সরদার এ নাঈম।