প্রবাস জীবন, কর্মব্যস্ততা আর হাজারো সীমাবদ্ধতার মাঝেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা যায়—তারই উজ্জ্বল উদাহরণ সৌদি প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটর এস এইচ সবুজ। পেশায় একজন ফার্মেসি কর্মী হলেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি আজ পরিচিত মুখ। ধৈর্য, পরিশ্রম এবং ধারাবাহিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে তিনি গড়ে তুলেছেন লক্ষাধিক মানুষের ভালোবাসার একটি প্ল্যাটফর্ম।
এস এইচ সবুজের পুরো নাম শাহারিয়ার হোসেন সবুজ। কনটেন্ট ক্রিয়েশনের সঙ্গে তার সম্পর্ক আজকের নয়। একসময় তিনি নাটক ও শর্টফিল্ম নির্মাণের ক্যামেরা বিভাগের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু জীবিকার প্রয়োজনে তাকে পাড়ি জমাতে হয় সৌদি আরবে। ক্যামেরা থেকে দূরে গেলেও সৃষ্টিশীলতার প্রতি ভালোবাসা কখনোই হারিয়ে যায়নি।
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে একটি ফার্মেসিতে চাকরির পাশাপাশি তিনি নিজের ফেসবুক পেজ “Arabian Vlog”-এ নিয়মিত ভিডিও কনটেন্ট প্রকাশ করতে শুরু করেন। তবে সাফল্যের পথ তার জন্য সহজ ছিল না। দীর্ঘ সময় ধরে নিয়মিত ভিডিও প্রকাশ করেও আশানুরূপ সাড়া পাননি। তবুও হাল ছাড়েননি তিনি।
প্রবাস থেকে মুঠোফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এস এইচ সবুজ বলেন,
“আমি প্রায় ১০ বছর আগে Arabian Vlog পেজটি তৈরি করি। অনেক ভিডিও দেওয়ার পরও শুরুতে সাফল্য পাইনি। তবে গত দেড় বছরে আমার ফলোয়ার দ্রুত বাড়তে শুরু করে।”
তার এই ধৈর্য ও অধ্যবসায়ের ফল এখন দৃশ্যমান। বর্তমানে Arabian Vlog পেজটির অনুসারী সংখ্যা প্রায় ১৯ লাখ (১.৯ মিলিয়ন), যা তাকে বাংলাদেশের জনপ্রিয় প্রবাসী কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের একজন হিসেবে পরিচিতি এনে দিয়েছে।
শুধু নিজের সাফল্যেই থেমে থাকেননি এস এইচ সবুজ। তিনি জানান, ফেসবুক কনটেন্ট মনিটাইজেশন থেকে অর্জিত আয়ের একটি অংশ নিয়মিতভাবে তার ফ্যান-ফলোয়ারদের মাঝে বিভিন্ন উপায়ে বিতরণ করেন। এছাড়াও নতুন ও সম্ভাবনাময় কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের উৎসাহ দিতে অনেকের পেজ বিনামূল্যে প্রোমোশন করে থাকেন।
বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের রিয়াদে কর্মরত থাকলেও তার শেকড় বাংলাদেশের নাউড়াকান্দি গ্রামে। গ্রামের একজন সাধারণ তরুণ থেকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে পরিচিত কনটেন্ট ক্রিয়েটর হয়ে ওঠার এই যাত্রা আজ অনেক তরুণের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস।
স্বপ্ন পূরণে প্রয়োজন ধৈর্য ও ধারাবাহিকতা
ক্যামেরার পেছনে কাজ করা একজন তরুণের প্রবাস জীবনে সংগ্রাম, তারপর আবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সফলভাবে ফিরে আসা—এস এইচ সবুজের গল্প প্রমাণ করে, প্রতিভা ও পরিশ্রমের সমন্বয় ঘটলে সাফল্য একদিন না একদিন ধরা দেয়ই।
নতুন কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের জন্য তার বার্তা একটাই—“নিয়মিত কাজ করুন, হতাশ হবেন না। সাফল্য সময় নিলেও একসময় আসবেই।”
প্রবাসের ব্যস্ত জীবনেও স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রাখা এই তরুণের গল্প নিঃসন্দেহে বাংলাদেশের হাজারো উদীয়মান কনটেন্ট নির্মাতার জন্য এক অনন্য প্রেরণা।